ইউপিআই মাশুল বিতর্ক: ‘ট্রাম্পের চাপে নতিস্বীকার’ রাহুলের, অনড় কেন্দ্র গড়াচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে

ইউপিআই মাশুল বিতর্ক: ‘ট্রাম্পের চাপে নতিস্বীকার’ রাহুলের, অনড় কেন্দ্র গড়াচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে

ইউপিআই (UPI)-এর মাধ্যমে ২০০০ টাকার বেশি ব্যবসায়িক লেনদেনে মাশুল বসানোর কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও আইনি চাপানউতোর তুঙ্গে। একদফা কেন্দ্রের এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে, অন্যদিকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিষয়টিকে নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছেন।

রাহুল গান্ধীর কড়া তোপ বুধবার একটি ভিডিও বার্তায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, আমেরিকা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতিস্বীকার করেই ইউপিআই-এর ওপর এই মাশুল চাপিয়েছে কেন্দ্র। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দূরদর্শিতা ও দৃঢ়তার উদাহরণ টেনে রাহুল বলেন, “ইন্দিরাজি বলতেন তিনি কোনো দিকে না ঝুঁকে সোজা দাঁড়িয়ে থাকেন। অথচ মোদীজি আমেরিকার সামনে সোজা শুয়ে পড়েছেন।” রাহুল দাবি করেন, এর মাধ্যমে সাধারণ ভারতীয়দের পকেট কেটে আমেরিকার পকেটে টাকা ভরছে কেন্দ্র। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

আইনি জটিলতা ও শীর্ষ আদালতে মামলা অর্থমন্ত্রকের গত ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বরের ইউপিআই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন আইনজীবী অঞ্জন দত্ত। মামলাটিতে কেন্দ্রীয় সরকার, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI), ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন লিমিটেড (NPCI) এবং ইউপিআই-কে বিবাদী করা হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, এই সিদ্ধান্ত আখেরে সাধারণ মানুষের ওপরই পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে।

নতুন নিয়ম কী এবং কেন্দ্রের অবস্থান আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী:

  • ২০০০ টাকার বেশি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনের (Merchant Transactions) ওপর ০.৪ শতাংশ হারে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) প্রযোজ্য হবে।
  • সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেনে এই মাশুল লাগবে না।
  • ২০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং রুপে (RuPay) ডেবিট কার্ডের ব্যবহারে মাশুল সম্পূর্ণ মকুব থাকবে।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও আইনি মামলা সত্ত্বেও কেন্দ্র পিছু হটতে নারাজ। সরকারি সূত্রের খবর, বিগত পাঁচ বছরের পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই বিরোধী বা আইনি চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত ফেরানোর কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *