‘মাই ফ্রেন্ড’ কটাক্ষে সরগরম রাজনীতি: বিজেপির তোপ, পাশে মহুয়া-সৌরভ, অস্বস্তিতে হাত শিবির!

‘মাই ফ্রেন্ড’ কটাক্ষে সরগরম রাজনীতি: বিজেপির তোপ, পাশে মহুয়া-সৌরভ, অস্বস্তিতে হাত শিবির!

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর আয়োজিত ‘ছাত্রোঁ কী গুঞ্জ’ সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক তুফান শুরু হয়েছে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাচনভঙ্গি ও আচরণ নকল করার অভিযোগকে ঘিরে মুখোমুখি বিজেপি ও বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর স্বর্গত মাকে আসাম্মান করা হয়েছে— এই অভিযোগে বিজেপি আক্রমণ শানালেও, বিতর্ক ছড়িয়েছে কংগ্রেসের নিজের অন্দরেও।

ইন্দোরের মঞ্চে ঠিক কী ঘটেছিল? ইন্দোরের ওই অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা পুলকিত মণি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জড়িয়ে ধরা, ‘মাই ফ্রেন্ড’ বলে ডাকার ভঙ্গি এবং দলের সভায় বৃদ্ধা মহিলাকে আসন দেওয়ার অনুকরণ করে দেখান পুলকিত। এই পুরো পর্বে রাহুল গান্ধী মঞ্চেই হাসিমুখে উপস্থিত ছিলেন। বিজেপির অভিযোগ, এটি কেবল প্রধানমন্ত্রী নয়, তাঁর প্রয়াত মাকেও অপমান করার সামিল।

বিজেপি নেতৃত্বের তীব্র আক্রমণ ঘটনার পর একাধিক শীর্ষ বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুর চড়িয়েছেন:

  • প্রহ্লাদ জোশী: এক্স-পোস্টে লেখেন, পড়ুয়াদের সঙ্গে মত বিনিময়ের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত মাকে অপমান করা হয়েছে। এতে ন্যূনতম রাজনৈতিক সৌজন্য নেই।
  • কিরেণ রিজিজু: কটাক্ষ করে বলেন, ‘কংগ্রেস এখন একটি জোকারের পার্টিতে পরিণত হয়েছে।’
  • দেবেন্দ্র ফড়নবীশ: পরামর্শের সুরে বলেন, রাহুল গান্ধী রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে মিমিক্রিকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেই ভালো করবেন।
  • পীযূষ গোয়েল: পুরো ঘটনাকে ‘সস্তা রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যা দেন।

রাহুলের সমর্থনে মহুয়া ও সৌরভ বিজেপির এই আক্রমণের জবাবে রাহুলের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি (আপ):

  • মহুয়া মৈত্র (তৃণমূল সাংসদ): এটি কোনো অপকৌশল বা অপরিণত আচরণ নয়। প্রধানমন্ত্রীকে নির্ভয়ে ব্যঙ্গ করা গণতান্ত্রিক অধিকার, যা সাধারণ মানুষ দীর্ঘকাল থেকে বঞ্চিত ছিল।
  • সৌরভ ভরদ্বাজ (আপ নেতা): বিজেপিকে তোপ দেগে বলেন, কেজরিওয়াল বা রাহুলের পরিবারকে নিয়ে যারা অতীতে কুরুচিকর মন্তব্য করেছে, তাদের মুখে এখন মর্যাদার কথা শোভা পায় না। সম্মান পেতে হলে আগে সম্মান দিতে হবে।

অস্বস্তিতে হাত শিবির, প্রশ্ন দলের অন্দরেই বাইরের দলগুলি পাশে দাঁড়ালেও কংগ্রেস কিন্তু পুরোপুরি একমত হতে পারছে না। বর্ষীয়ান নেতা রশিদ আলভি পাল্টা বিজেপিকে নিশানা করলেও, দলের অনেক প্রথম সারির নেতাই এই কৌশল মেনে নিতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কংগ্রেস সাংসদ জানান, বিজেপির জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে মিমিক্রির মতো বিষয় টেনে আনার কোনো দরকার ছিল না। লক্ষ্যভ্রষ্ট তীরের সুযোগ যে প্রতিপক্ষ নেবেই, সেটাই স্বাভাবিক।

হোস্টেল ইস্যুতে পাল্টা সওয়াল রাহুলের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রাহুল গান্ধী অবশ্য এই ইস্যুতে নজর না দিয়ে দিল্লির সত্য নিকেতনে বাড়ি ভেঙে পড়ে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা তুলে মোদী সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। এক্স-পোস্টে তাঁর প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের জন্য সুরক্ষিত হোস্টেল তৈরি করা হচ্ছে না কেন? কিসের ভিত্তিতে তাদের বিপজ্জনক পিজি-তে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *