উজ্জয়িনীতে ধুন্ধুমার! ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ভাঙা ঘিরে রণক্ষেত্র এলাকা, চলল পাথরবৃষ্টি ও কাঁদানে গ্যাস

উজ্জয়িনীতে ধুন্ধুমার! ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ভাঙা ঘিরে রণক্ষেত্র এলাকা, চলল পাথরবৃষ্টি ও কাঁদানে গ্যাস

উজ্জয়িনী: ‘সিংহস্থ ২০২৮’ মেলাকে কেন্দ্র করে উজ্জয়িনীর রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হতেই তুমুল উত্তেজনা ছড়াল মধ্যপ্রদেশে। ৬০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার কাজ শুরু হলে সোমবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের রূপ নেয় পুরো এলাকা। পুলিশ ও স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে, পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুঁড়তে হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল।

বুলডোজার চলতেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় আসা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর যানজট এড়াতে শহরজুড়ে রাস্তা চওড়া করার মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে মোট ২৭২টি বাধার সৃষ্টিকারী কাঠামো চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে এই ঐতিহাসিক শাহী মসজিদটিও রয়েছে। কিন্তু সোমবার সকালে মসজিদ সরাতে বুলডোজার নামানো মাত্রই উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। পালটা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস চালিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। বর্তমানে এলাকা থমথমে থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)।

আইনি লড়াই ও ক্ষোভ মসজিদ কর্তৃপক্ষ এবং ওয়াকফ বোর্ডের দাবি ছিল, এই প্রাচীন কাঠামোটি না ভেঙে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এই নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে ইন্দোর হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ আবেদন খারিজ করে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজে সবুজ সংকেত দেয়। সোমবার ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ের শুনানির কথা থাকলেও তার আগেই রাতে মসজিদ চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি। তাঁর মতে, ঐতিহ্যের স্পর্শকাতর বিষয়গুলিতে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল। যদিও প্রশাসনের দাবি, শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও যানজট মোকাবিলার স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। বর্তমানে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *