ফের প্রলয় নেপালে! টানা ৩ দিনের বৃষ্টি-ধসে মৃত ২৪, তুষারধসে নিখোঁজ ১০ পর্বতারোহী

ফের প্রলয় নেপালে! টানা ৩ দিনের বৃষ্টি-ধসে মৃত ২৪, তুষারধসে নিখোঁজ ১০ পর্বতারোহী

অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে নেপাল। টানা তিন দিনের প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত একের পর এক জেলা। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে ১৪ জনেরই প্রাণ গিয়েছে ধসের কারণে। এখনও নিখোঁজ ১৪ জন।

কোন কোন জেলায় ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি? ন্যাশন্যাল ডিজ়াস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (NDRRMA) রিপোর্ট অনুযায়ী, মানাং, মিয়াগদি, বাগলুং, পর্বত, পালপা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি।

  • বাগলুং: ১০ জনের মৃত্যু
  • মিয়াগদি: ৬ জনের মৃত্যু
  • পালপা: ৫ জনের মৃত্যু
  • মানাং: ২ জনের মৃত্যু
  • মিথিলা (ধনুষা): ১ জনের মৃত্যু

তাছাড়া প্রবল বৃষ্টির জেরে কালীগণ্ডকী-সহ প্রধান নদীগুলির জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ধস নেমে পাহাড়ি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ।

তুষারধসে আটকে পর্বতারোহীরা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মানাং জেলার হিমলুং হিমাল শৃঙ্গের একটি মর্মান্তিক ঘটনা। রবিবার সেখানে এক ভয়াবহ তুষারধসে ২ জন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ অন্তত ১০ জন।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধারকাজ গত অগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হড়পা বানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৪৫১ জন, যার পর থেকে এখনও ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। সেই ট্র্যাজেডির পরেই এই নতুন ধাক্কা। এনডিআরআরএমএ জানাচ্ছে, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ২৬০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং ৮০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে সেনাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *