SRFTI-তে তুলকালাম, ‘সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না’, হুঙ্কার দিলীপের

SRFTI-তে তুলকালাম, ‘সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না’, হুঙ্কার দিলীপের

কলকাতা: থিয়েটার হল ভাড়া নিয়ে আরএসএস-এর শাখা সংগঠনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশ্ন ইনস্টিটিউট (SRFTI)। রবিবার রাতের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর সোমবারই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কড়া হুঙ্কার দিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, ‘যারাই করে থাকুক, এটা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ। এটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’

ঠিক কী ঘটেছিল ক্যাম্পাসে? রবিবার পঞ্চসায়রে অবস্থিত এই কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেন থিয়েটার হল ভাড়া নিয়ে একটি সভার আয়োজন করেছিল RSS-এর শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (ABGP)। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনের ভেতরে কেন এমন সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হবে, তা নিয়ে প্রতিবাদ জানান SRFTI-এর পড়ুয়াদের একাংশ। বচসা থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক মুহূর্তেই দুই পক্ষের সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, সভার আড়ালে একদল বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি ছুরি দিয়ে আঘাতের গুরুতর অভিযোগও তোলেন তাঁরা। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ছাত্র ও অধ্যাপক আহত হন।

অন্যদিকে, ABGP-র দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, কিছু অধ্যাপকের প্ররোচনায় পড়ুয়ারা সভায় আসা মহিলা ও শিশুদের ওপর আক্রমণ চালায়, যার জেরেই সংঘাতের সূত্রপাত।

মহাপুরুষদের অবমাননা ও দিলীপ ঘোষের তোপ: রবিবারের এই গোলমালের সময় স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারা এবং থুতু ছেটানোর মতো সংবেদনশীল অভিযোগও সামনে এসেছে। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি এতদিন রাজ্যে প্রশ্রয় পেয়েছে। নকশাল আমলে যেভাবে মহাপুরুষদের মূর্তিতে কালি লাগানো হতো, সেই মানসিকতার কিছু লোক আজও বেঁচে রয়েছে। তবে এই ধরনের সংস্কৃতিবিরোধী কাজ মানুষ আর মেনে নেবে না।” একই সাথে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন তিনি।

পুলিশে অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের অবস্থান: ঘটনার জল গড়িয়েছে থানা পর্যন্ত। ইতিমধ্যে দু পক্ষই পঞ্চসায়র থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। SRFTI-এর ডিন-ইন-চার্জ সুকান্ত মজুমদার জানান, “শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের মূল অগ্রাধিকার। প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকেও পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *