গদি বাঁচাতে দিল্লির দরবারে নতিস্বীকার, অবশেষে বামেদেরই পাতা জালে পা দিলেন মমতা

নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপি বিরোধী অবস্থান শক্ত করতে বৈঠকে সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি বুদ্ধিজীবী ও সিভিল সোসাইটিকে একজোট করার প্রস্তাব দেন, যাতে সঙ্গে সঙ্গেই সায় দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীত বৈরিতা ভুলে তিনি জানান যে ইতিমধ্যে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গেও কথা বলেছেন। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন অভিযানের বিষয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা জি দেবরাজনের প্রস্তাবকেও মমতা ও রাহুল গান্ধী সমর্থন জানান। বৈঠকে কেরলের উদাহরণ টেনে রাহুল গান্ধী স্মরণ করিয়ে দেন যে জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর স্বার্থে দিল্লিতে সবাই একজোট।
একসময় বাংলায় ৩৪ বছরের বাম শাসন উৎখাত করে ক্ষমতায় আসা তৃণমূল নেত্রীর এমন নমনীয় অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়েও তিনি নিজের নরম মনোভাব স্পষ্ট করেছেন। তবে জোটের মঞ্চে মমতার এই পদক্ষেপকে কড়া ভাষায় খোঁচা দিয়েছেন বাংলার সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও ব্যাকফুটে পড়েই এখন বামেদের প্রস্তাবে সাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন মমতা। তবে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দল মত নির্বিশেষে সব বিরোধীদের একজোট হয়ে লড়াই করার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।