সন্তানদের রক্ষায় রাঢ়বাংলায় আজও পুজো পান শিয়াল-শকুন! জীমুতবাহন পুজোর এই অবিশ্বাস্য রীতিনীতি কি জানেন? – এক ঝলক

একঝলক ডেস্ক:
সন্তানদের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় রাঢ়বাংলাজুড়ে পালিত হলো হাজার বছরের প্রাচীন লোকউৎসব জিতাষ্টমী। ছড়ার লাইন কেবল মুখে মুখে নয়, বাস্তবে রূপ দিয়ে এই বিশেষ তিথিতে মায়েরা ঘরে ঘরে পুজো করেন শিয়াল ও শকুনের। বটগাছের নীচে মাটির তৈরি শিয়াল-শকুনের মূর্তি বসিয়ে ধানগাছ, মানকচু, হলুদ, শালুক ফুল ও বটের ডাল সহযোগে দেবতা জীমুতবাহনের উপাসনা করা হয়। পুজো শেষে সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়া হয় গোটা শসা ও ভিজানো ছোলা। পরদিন সকালে প্রথা মেনে শিশুরা ছড়া কাটতে কাটতে স্থানীয় জলাশয়ে সেই মূর্তি বিসর্জন দিয়ে আসে।
এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরাণের লোককথা ও ঐতিহ্যময় ইতিহাস। প্রচলিত রয়েছে, ত্রেতা যুগে ব্রাহ্মণকন্যা সুভদ্রার সূর্য উপাসনার ফলে জন্ম নেওয়া চারহাতবিশিষ্ট জীমুতবাহনের আশীর্বাদ লাভ করতেই এই পুজোর সূচনা। ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপুরে এই জিতাষ্টমীর দিন থেকেই ‘বেল্লি বরণ’-এর মাধ্যমে শুরু হয় মল্লরাজাদের হাজার বছরের প্রাচীন দেবী মৃন্ময়ীর শারদীয়া দুর্গোৎসব। ইতিহাসবিদদের মতে, পুরুষের বলবর্ধন ও পারিবারিক কল্যাণ কামনার এই বিশেষ লোকাচার আধুনিক যুগের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজস্ব মহিমায় টিকে রয়েছে।