স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি এড়াতে তিরিশের পরেই ম্যামোগ্রাম কি বাধ্যতামূলক হওয়া প্রয়োজন!

বর্তমানে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত করতে পারলে জীবন রক্ষা পাওয়া অনেক সহজ হয়। অনেক সময় স্তনে খুব ছোট টিউমার থাকলেও তা সাধারণ স্পর্শে ধরা পড়ে না। অথচ হালকা ব্যথা বা স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক ক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে। এই ধরনের অস্পষ্ট লক্ষণগুলি নিশ্চিত করতেই ম্যামোগ্রাম পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি ও কার্যকরী হয়ে ওঠে।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও প্রতিকার
ম্যামোগ্রাম হলো স্তনের এক বিশেষ ধরনের এক্স-রে, যা টিস্যুর সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো ধরতে সক্ষম। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, বয়স ৩০ বছর পার হলে প্রতিটি নারীরই নিয়মিত স্ক্রিনিং টেস্ট বা ম্যামোগ্রাম করানো উচিত। কারণ অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসার কোনো প্রকাশ্য উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। আগে থেকে পরীক্ষা করানো থাকলে ভবিষ্যতের বড় কোনো ঝুঁকি বা জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
কেন এই পরীক্ষা অবহেলা করা বিপজ্জনক
যদি স্তনে কোনো অস্বাভাবিকতা অনুভূত হয় এবং তা অবহেলা করা হয়, তবে ক্যানসার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে পূর্ণ সুস্থতা সম্ভব, কিন্তু দেরি হয়ে গেলে তা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ম্যামোগ্রামকে স্তন স্বাস্থ্য রক্ষার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে। নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- স্তনে হাত দিয়ে বোঝা যায় না এমন ছোট টিউমার শনাক্ত করতে ম্যামোগ্রাম জরুরি।
- ৩০ বছর বয়সের পর নারীদের নিয়মিত ক্যানসার স্ক্রিনিং টেস্ট করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
- স্তনবৃন্ত থেকে ক্ষরণ বা হালকা ব্যথা থাকলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করলে ক্যানসারের প্রাণঘাতী ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো যায়।