একই পাওয়ার হলেও অন্যের চশমা পরা বিপদ! জানুন চিকিৎসকদের চরম সতর্কবার্তা

বন্ধুর সঙ্গে পাওয়ারের নম্বর মিলে গেছে বলে তাঁর চশমাটি কিছুক্ষণের জন্য পরে দেখা—আমাদের অনেকের কাছেই খুব স্বাভাবিক এক অভ্যাস। কিন্তু চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হওয়া এই ভুলটিই চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
পাওয়ার এক হলেও চশমা কেন আলাদা? বিশেষজ্ঞরা জানান, চশমা কেবল একটি সাধারণ নম্বর দিয়ে তৈরি হয় না। দু’জন মানুষের চোখের পাওয়ার -২.০০ হলেও চশমা দুটি কখনোই এক হতে পারে না। এর পেছনে রয়েছে চারটি মূল কারণ:
- পুপিলারি ডিস্টেন্স (PD): এটি দুই চোখের মণির মধ্যবর্তী দূরত্ব। ধরা যাক, আপনার PD ৬২ মিমি এবং বন্ধুর PD ৬৮ মিমি। এখন একই পাওয়ার হওয়া সত্ত্বেও বন্ধুর চশমা পরলে লেন্সের সেন্টার আপনার চোখের ফোকাসের সঙ্গে মিলবে না, যা চোখে তীব্র চাপ সৃষ্টি করবে।
- সিলিন্ডার ও অ্যাক্সিস: অ্যাস্টিগমাটিজম বা দৃষ্টির বক্রতা সংশোধনের জন্য এটি প্রয়োজন হয়। অনেকের এক চোখে সিলিন্ডার পাওয়ার থাকে, যা অন্য জনের না-ও থাকতে পারে।
- দুই চোখের পাওয়ারের তারতম্য: অধিকাংশ মানুষের ডান ও বাম চোখের পাওয়ারে কিছুটা পার্থক্য থাকে (যেমন—এক চোখে -১.৫০ এবং অন্য চোখে -২.৫০)। অন্যের চশমায় এই চোখের ব্যক্তিগত ভারসাম্য মিলবে না।
- স্ফিয়ার পাওয়ার: এটি মূলত দূরের বা কাছের দৃষ্টির সাধারণ মাপকাঠি, যা চশমা তৈরির একটি অংশমাত্র।
সাময়িক ও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ক্ষতি অন্যের চশমা পরলে তৎক্ষণাৎ মাথা ঘোরা, চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা, বমি ভাব এবং চোখ দিয়ে জল পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। মস্তিষ্ক যখন জোর করে সেই ভুল ফোকাসের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন তৈরি হয় মারাত্মক ‘আই স্ট্রেন’।
দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস চললে চোখের ফোকাস করার পেশিগুলো স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য অন্যের চশমা পরা অত্যন্ত বিপজ্জনক; এতে পাওয়ার দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ‘অ্যাম্বলিওপিয়া’ (Amblyopia) বা ‘লেজি আই’-এর মতো জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চক্ষু চিকিৎসকদের মতে, চশমা ওষুধের মতোই একটি ব্যক্তিগত বিষয়। পাওয়ার এক হলেও অন্যের চশমা পরা একদম অনুচিত। সবসময় সঠিক পরীক্ষা করিয়ে নিজস্ব প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চশমা বানাতে হবে। চোখে চাপ বা অস্বস্তি অনুভব করলে দেরি না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।