ধোনি ও কপিল দেবের কাছে ক্ষমা চাইলেন যুবরাজ সিং, কেন এই দুঃখপ্রকাশ

পিতা যোগরাজ সিংয়ের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এবার মুখ খুললেন ভারতের প্রাক্তন তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং কপিল দেবের মতো কিংবদন্তি অধিনায়কদের বিরুদ্ধে তাঁর বাবার করা কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ইউভি। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে যুবরাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই ধরণের আচরণ একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর জন্য লজ্জিত।
প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ যোগরাজ সিং দীর্ঘদিন ধরেই ধোনি এবং কপিল দেবকে লক্ষ্য করে বিষোদগার করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ধোনির কারণেই যুবরাজ ভারতীয় দলের অধিনায়ক হতে পারেননি এবং কপিল দেবের চক্রান্তে যোগরাজের নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার অকালে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি গত বছর এক সাক্ষাৎকারে যোগরাজ দাবি করেছিলেন যে, রাগের মাথায় তিনি কপিল দেবকে হত্যা করতে তাঁর চণ্ডীগড়ের বাড়িতে পিস্তল নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
বাবার এমন বিস্ফোরক ও নেতিবাচক মন্তব্যে ক্রিকেট মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে যুবরাজ সিং বলেন, “আমি কপিল দেব এবং এমএস ধোনির কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি আমার বাবাকে একাধিকবার অনুরোধ করেছি যেন তিনি এই ধরনের কথা না বলেন। এটা কোনোভাবেই ঠিক নয়।” যুবরাজ আরও জানান যে, তিনি তাঁর বাবার চিন্তাধারা পরিবর্তন করার চেষ্টা করলেও তাতে সফল হননি।
যোগরাজ সিংয়ের দাবি অনুযায়ী, আশির দশকে কপিল দেবের কারণে তিনি দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি ছেলেকে ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করেন। তবে শুধু কপিল বা ধোনি নন, বিষাণ সিং বেদীর মতো প্রথিতযশা ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময় তোপ দেগেছেন যোগরাজ। তিনি অভিযোগ করেন, এই অধিনায়করা ভারতীয় ক্রিকেটের ক্ষতি করেছেন এবং সতীর্থদের যোগ্য সম্মান দেননি।
পেশাদার ক্রিকেটে যুবরাজ সিং সবসময়ই ধোনি ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। ভারতের ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে যুবরাজের অবদান অনস্বীকার্য। পিতার ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখে যুবরাজ যেভাবে সৌজন্য দেখালেন, তা ক্রীড়ামোদীদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করলেন যে মাঠ এবং মাঠের বাইরেও তিনি একজন প্রকৃত ‘জেন্টলম্যান’।