‘এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে…’, কান্না থামিয়ে মুখ খুললেন মেসি

কথায় আছে, শেষ ভাল যার, সব ভাল তার। কিন্তু ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে গল্পটা অন্যরকম হলো। ২০২২ সালের পর ২০২৬-এও নীল-সাদা জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন মেসি। কিন্তু স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে কেরিয়ারের শেষ ম্যাচে ‘লাস্ট ডান্স’-এর সুর কাটল তাঁর। বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার পর নিজের নীরবতা ভাঙলেন মেসি।
কী বললেন লিওনেল মেসি? ফাইনাল হারের একদিন পর ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। পরাজয়ের যন্ত্রণা থেকে বেরিয়ে আসা যে কঠিন, তা অকপটে স্বীকার করে তিনি লেখেন:
- গভীর ক্ষত: “এই ক্ষত গভীর। এটা সারতে অনেকটা সময় লাগবে। তবে যা কিছু ভাল, তা নিয়েই আমি থাকতে চাই।”
- সতীর্থদের প্রতি গর্ব: “যে ম্যাচগুলো জিততে আমরা নিজেদের সর্বস্ব উজার করে দিয়েছিলাম, তা আজীবন স্মৃতিতে থাকবে। গোটা দেশের সমর্থন আর টিমের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমরা টানা দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে পেরেছি।”
- ধন্যবাদ জ্ঞাপন: ভক্তদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন স্পেনকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনার মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত।”
ফাইনালে কেন ব্যর্থ আর্জেন্টিনা? গোটা টুর্নামেন্টে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন ৩৯ বছর বয়সি মেসি। নকআউটে মিশর এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। কিন্তু ফাইনালে স্পেনের নিখুঁত স্ট্র্যাটেজির কাছে হার মানতে হয় আলবিসেলেস্তেদের।
- মেসিকে বোতলবন্দি: স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কড়া ম্যান-মার্কিংয়ে ফাইনালে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন মেসি।
- লজ্জার পরিসংখ্যান: বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দল প্রথম ৯০ মিনিটে একটিও শট নিতে পারেনি। ১১৬ মিনিটে আর্জেন্টিনার প্রথম শট আসে।
- লাল কার্ড ও গোল হজম: মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনে নেমে যায় আর্জেন্টিনা। এরপরেই অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস।
ম্যাচ শেষে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্বীকার করেছেন, এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দুর্দান্ত সেভ না থাকলে আরও আগেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেত। সব মিলিয়ে, মেসির বিদায়ী মঞ্চে স্পেনের তরুণ ব্রিগেডই শেষ হাসি হাসল।