“নেতাদের ঘরে পাঠানো হয় হোস্টেলের মেয়েদের!” পাপ্পু যাদবের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

“নেতাদের ঘরে পাঠানো হয় হোস্টেলের মেয়েদের!” পাপ্পু যাদবের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

বিহারের পূর্ণিয়ার সাংসদ পপ্পু যাদবের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে গিয়ে নারীদের চরম শোষণ ও যৌন হেনস্তার সম্মুখীন হতে হয়। মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী নেতাদের অনৈতিক সমর্থন ছাড়া অধিকাংশ নারীর পক্ষে রাজনীতিতে টিকে থাকা প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়েছে।

একাধিক পেশায় যৌন হয়রানির অভিযোগ

সাংসদ পপ্পু যাদব আরও চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে জানান, শুধুমাত্র রাজনীতি নয় বরং শিক্ষা, কর্পোরেট এবং পুলিশ বিভাগেও নারীরা ব্যাপকভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়তে প্রায় ৯০ শতাংশ নারীকেই নেতাদের ব্যক্তিগত কক্ষে যেতে বাধ্য করা হয়। এমনকি পাটনার বিভিন্ন হোস্টেল থেকে ছাত্রীদের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে পাঠানোর মতো অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি, যা নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

মহিলা কমিশনের পদক্ষেপ ও সংঘাত

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিহার রাজ্য মহিলা কমিশন পপ্পু যাদবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে। তবে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে সাংসদ ওই নোটিশকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তা ‘ডাস্টবিনে’ ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনা একদিকে যেমন নারীদের সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • পূর্ণিয়ার সাংসদ পপ্পু যাদব রাজনীতিসহ বিভিন্ন পেশায় নারীদের যৌন শোষণের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন।
  • তাঁর দাবি, ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য ৯০ শতাংশ নারীকে প্রভাবশালী নেতাদের লালসার শিকার হতে হয়।
  • এই মন্তব্যের জেরে বিহার মহিলা কমিশন তাঁকে নোটিশ দিলেও তিনি তা সগর্বে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
  • সাংসদের এই অনমনীয় অবস্থান রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক মেরুকরণ ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *