বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো তৃণমূলের পার্টি অফিস, ১১ বছর পর জমি ফেরত পেলেন মালিক!

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই বেআইনি নির্মাণ এবং জমি জবরদখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এবার কলকাতার বেলেঘাটার মাঠপুকুর এলাকায় এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটল। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বেদখল হয়ে থাকা নিজের জমি উদ্ধার করতে সরাসরি বুলডোজার চালালেন এক নারী। বিজেপি নেতৃত্ব এবং পুলিশের উপস্থিতিতে আজ শনিবার ওই জমির ওপর গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলের কার্যালয়টি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
জমি দখলের নেপথ্য কাহিনী
ভুক্তভোগী জমির মালিক ঝর্ণা কুণ্ডুর অভিযোগ, প্রায় ১১ বছর আগে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মিথ্যা কথা বলে তাঁর কাছ থেকে এই জমিটি দখল করে নিয়েছিল। প্রথমে সেখানে সামাজিক ক্লাব গড়ে তোলার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে তা রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়। শুধু তাই নয়, ওই পার্টি অফিসে নিয়মিত অসামাজিক কাজকর্ম ও মদের আসর বসত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজু ঘোষ, মিন্টু এবং বাচ্চু গাঙ্গুলীর প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে দাবি জমির মালিকের।
রং বদলের রাজনীতি ও উদ্ধার অভিযান
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই তৃণমূল নেতারাই রাতারাতি পার্টি অফিসের খোলস বদলে ফেলার চেষ্টা করেন। কার্যালয়ের দেওয়ালে গেরুয়া রং লাগিয়ে এবং বিজেপির পতাকা ঝুলিয়ে দিয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি ভেতরে থাকা পূর্বতন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ছবিও ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে জবরদখলের এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন ঝর্ণা কুণ্ডু। প্রশাসনের আশ্বাস পাওয়ার পরই আজ পুলিশি পাহারায় সেখানে বুলডোজার এনে অবৈধ নির্মাণটি ভেঙে ফেলা হয়। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর নিজের পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ওই নারী।
প্রশাসনের কড়া বার্তা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতি জবরদখলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। আজকের এই ঘটনাটি তারই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে এসে বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম বা দখলদারি করলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বেলেঘাটার এই ঘটনাটি রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে ঘটে যাওয়া অবৈধ জমি দখলের বিরুদ্ধে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এর ফলে যেমন একদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়বে, ঠিক তেমনই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখলের প্রবণতা অনেকটাই হ্রাস পাবে।