জ্বালানি সঙ্কট! চরম বিপাকে যাত্রীরা

জ্বালানি সঙ্কট! চরম বিপাকে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের ছুটির মরসুমের মাঝেই বিমানযাত্রীদের জন্য নেমে এলো এক চরম দুঃসংবাদ। আগামী জুন মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত দেশজুড়ে ব্যাপক হারে ঘরোয়া বিমান (Domestic Flights) কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের দুই প্রধান বিমান সংস্থা— ‘ইন্ডিগো’ (IndiGo) ও ‘এয়ার ইন্ডিয়া’ (Air India)। এই দুই সংস্থার যৌথ কাটছাঁটের জেরে আগামী তিন মাস দৈনিক অন্তত ২৫০টি ঘরোয়া উড়ান বাতিল হতে পারে। ফলে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো বড় শহরগুলির সাধারণ যাত্রীরা যেমন চরম বিপাকে পড়তে চলেছেন, তেমনই বিমানযাত্রার খরচও (Flight Fares) এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও এটিএফ-এর আকাশছোঁয়া দাম

বিমান সংস্থাগুলির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত কাজ করছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি সঙ্কট। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা যুদ্ধকালীন অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগান বিঘ্নিত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমানের জ্বালানির ওপর। কলকাতায় বর্তমানে এটিএফ-এর দাম প্রতি কিলোলিটারে প্রায় ১,০৯,৪৫০ টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া দামের কারণেই বিমান চালানো কার্যত লাভজনক করা যাচ্ছে না বলে দাবি সংস্থাগুলির।

বাতিল ২৫০টি বিমান, পকেটে টান পড়বে যাত্রীদের

জুন থেকে আগস্ট— এই তিন মাস ভারতে পর্যটন ও ব্যবসার অন্যতম ব্যস্ত সময়। ঠিক এই সময়েই প্রতিদিন ২৫০টি করে বিমান বসে যাওয়ার অর্থ হলো, হাজার হাজার যাত্রী বুকিং করার পরেও শেষ মুহূর্তে টিকিট বাতিলের মুখোমুখি হতে পারেন। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, উড়ানের সংখ্যা এক ধাক্কায় এতটা কমে গেলে স্বাভাবিক নিয়মেই চাহিদার তুলনায় আসনের ঘাটতি দেখা দেবে। ফলে আগামী দিনগুলিতে ঘরোয়া রুটের বিমানের টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে যাঁদের যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের পকেট কাটার জোগাড় হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমান সংস্থাগুলি বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *