বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের সিনিয়ার রেসিডেন্টশিপ বাতিল! আরজি কর কাণ্ডের জেরে অবশেষে বড় পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দফতরের

বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের সিনিয়ার রেসিডেন্টশিপ বাতিল! আরজি কর কাণ্ডের জেরে অবশেষে বড় পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দফতরের

নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি করের নৃশংস ঘটনার সময়ে একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়া নিলম্বিত (সাসপেন্ডেড) চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ এবার বাতিল করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে এই কড়া সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। ছাব্বিশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর চিকিৎসকদের একাংশের ‘উত্তরবঙ্গ লবি’র এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

২০২৪-এর সেপ্টেম্বর থেকে ছিলেন নিলম্বিত

সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট ছিলেন বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। আরজি কর কাণ্ডে তাঁর নাম জড়ানোর পর, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে প্রথমবার সাসপেন্ড বা নিলম্বিত করা হয়েছিল। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিভাগীয় তদন্ত ও সামগ্রিক পরিস্থিতির পরিপ্রক্ষিতে এবার তাঁর সিনিয়র রেসিডেন্টশিপের পদটিই সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন।

সেমিনার রুমে উপস্থিতি নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট সকালে আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার রুমে যখন তরুণী চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়, তখন সেখানে বহিরাগতদের উপস্থিতির যে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল, তার মধ্যেই অন্যতম নাম ছিল বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের। ঘটনার দিন সকালে কোনো দায়িত্ব বা পোস্টিং না থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন এবং কার নির্দেশে আরজি করের ওই সেমিনার রুমে তথা ক্রাইম সিনে উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।

তদন্তকারী সংস্থা থেকে শুরু করে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের অনেকেই অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তথ্যপ্রমাণ লোপাট বা সন্দীপ ঘোষের নির্দেশেই তিনি সেখানে হাজির হয়েছিলেন। সেই সময়ে রাজ্যের একাধিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচার বা হুমকি সংস্কৃতির অন্যতম মাথা হিসেবেও তাঁর নাম সামনে এসেছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কের পর অবশেষে ২০২৬-এর মে মাসের শেষে এসে তাঁর রেসিডেন্টশিপ পুরোপুরি বাতিল করল বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *