পুরসভার নোটিসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ, বৈধতার দাবিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ অভিষেকের বাবা-মা
.jpeg?w=948&resize=948,533&ssl=1)
কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বিখ্যাত বাসভবনটি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই তৈরি এবং সেখানে কোনো বেআইনি নির্মাণ হয়নি, এই জোরালো দাবি তুলে এবার আইনি লড়াইয়ে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) পাঠানো নোটিসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতি। পুরসভার ওই নোটিস বাতিলের আর্জি জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন তাঁরা। আগামী বুধবার হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
সংঘাতের সূত্রপাত ও অভিষেকের ক্ষোভ
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক ঠিকানায় একের পর এক নোটিস পাঠানো হয়েছে। মূলত কলকাতা পুরসংস্থার ৪০১ ধারায় এই নোটিসগুলি পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত শংসাপত্র এবং প্ল্যান বহির্ভূত অতিরিক্ত নির্মাণ হয়ে থাকলে তার আইনি অনুমতির কাগজ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই এই প্রশাসনিক তৎপরতা।
এই নোটিস-পর্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ সংবাদমাধ্যমের সামনে পুরসভার নোটিস দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, নোটিসে ‘এনক্লোজড, প্লিজ ফাইলড ব্রিফ অফ ডিভিয়েশন’ লেখা থাকলেও কোনো বিবরণ বা অ্যাটাচমেন্ট দেওয়া হয়নি। বাড়ির কোন অংশে বিজ্ঞপ্তির বিচ্যুতি ঘটেছে, তা নির্দিষ্ট না করেই হঠাৎ নোটিস লাগিয়ে দেওয়ার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি তিনি আগেই দিয়েছিলেন। অভিষেকের এই প্রকাশ্য বিবৃতির পরেই তাঁর বাবা-মা সরাসরি আদালতের দরজায় কড়া নাড়লেন।
কারণ ও সম্ভাব্য আইনি প্রভাব
এই আইনি টানাপড়েনের মূল কারণ হলো পুরসভার পক্ষ থেকে নিয়মের কড়াকড়ি এবং নকশা বহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ। শুরুতে কেবল দু’টি বাড়িকে কেন্দ্র করে নোটিস দেওয়ার খবর এলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয় যে অভিষেকের বেশ কয়েকজন আত্মীয়র নামসহ প্রায় ১৭টি সম্পত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর আগে অভিষেকের সংস্থা ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর পক্ষ থেকে নথি জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১০ দিনের সময় চেয়ে পুরসভাকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।
এই মামলার সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। প্রথমত, হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানির পর আদালত যদি পুরসভার নোটিসের ওপর কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়, তবে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার সাময়িক স্বস্তি পাবে। দ্বিতীয়ত, আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে পুরসভা ওইসব নির্মাণে কোনো প্রশাসনিক বা উচ্ছেদ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে পারবে কি না। সর্বোপরি, এই হাই-প্রোফাইল মামলার আইনি গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে কলকাতার পুর-প্রশাসন এবং নাগরিকদের সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকারের আইনি লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।