শিক্ষক থেকে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী, কাঁথির ‘হেড স্যার’ অরূপ দাসের অভাবনীয় উত্থান

শিক্ষক থেকে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী, কাঁথির ‘হেড স্যার’ অরূপ দাসের অভাবনীয় উত্থান

সোমবার লোক ভবনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার রাজকীয় সম্প্রসারণ ঘটেছে। রাজ্যপাল আরএন রবির হাত ধরে এদিন শপথ নিয়েছেন ৩৫ জন নতুন মুখ। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুরের দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক অরূপ কুমার দাসের নাম। প্রথম সারির বিধায়ক পদ থেকে তিনি সরাসরি ঠাঁই করে নিয়েছেন রাজ্যের ক্যাবিনেটে, পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে। কাঁথি মহকুমার এই অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘হেড স্যর’ মন্ত্রী হতেই গোটা এলাকায় এখন খুশির জোয়ার বইছে।

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতির আঙিনায়

অরূপ কুমার দাসের পরিচয় রাজনীতির চিরাচরিত গণ্ডির বাইরে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই খাঁটি শিক্ষাবিদ দীর্ঘকাল কাঁথি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু স্কুলেই নয়, বহু অভাবী ও দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজের বাড়িতে পড়াতেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। প্রথমবার দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কাজের দক্ষতায় তিনি কাঁথি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁর ওপর পুনরায় ভরসা রাখলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিধানসভায় পৌঁছান এবং সোমবার ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

মেদিনীপুরকে বিশেষ গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব

শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য দেওয়া হয়েছে। অরূপ দাসের পাশাপাশি এই জেলা থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ভগবানপুরের বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক, ময়নার বিধায়ক তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা এবং তমলুকের বিধায়ক তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. হরেকৃষ্ণ বেরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেদিনীপুরের মাটিতে দলের ভিত আরও মজবুত করতে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতেই শিক্ষক, চিকিৎসক ও খেলোয়াড়দের এই ‘শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন’ টিমকে রাজ্যের নীতিনির্ধারক স্তরে নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *