টলিউডে ফেডারেশন জমানার অবসান ঘটিয়ে আসছে নতুন কনফেডারেশন, দুর্নীতির খোঁজে এবার কি শুরু হচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়া?

টলিউডে ফেডারেশন জমানার অবসান ঘটিয়ে আসছে নতুন কনফেডারেশন, দুর্নীতির খোঁজে এবার কি শুরু হচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়া?

দীর্ঘ দুই দশক পর টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প বা টলিউডেও বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। বিগত কয়েক বছর ধরে টলিউড অন্দরে চলা একচ্ছত্র আধিপত্য ও ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধকরণের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বুধবার সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় ঘোষণা করেন নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ বদলে দিয়ে এবার ফেডারেশনের জায়গায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে নতুন সংগঠন ‘কনফেডারেশন’।

রাজনীতির নাগপাশ ও ‘ব্যান কালচার’ মুক্তির ডাক

গত এক দশকে টলিউড ও ফেডারেশন কার্যত সমার্থক হয়ে উঠেছিল, যেখানে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর একচেটিয়া প্রতিপত্তির বিরুদ্ধে বারবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির একাংশ। বিরোধী শিবিরের হওয়ার কারণে বহু শিল্পী ও কলাকুশলীকে কোণঠাসা হতে হয়েছে এবং কাজের সুযোগ হারাতে হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই অচলাবস্থা কাটানোর বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পুরোনো বৈষম্যমূলক কাঠামোকে ভেঙে টলিউডকে রাজনীতির নাগপাশ থেকে মুক্ত করা হবে। নতুন পরিকাঠামোয় কোনো শিল্পী বা কলাকুশলীকে আর কাজ থেকে বঞ্চিত করা হবে না এবং প্রযোজকেরা স্বাধীনভাবে তাদের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

নতুন কনফেডারেশনের রূপরেখা ও এসআইআর তদন্তের হুঁশিয়ারি

ফেডারেশনের অধীনে থাকা পূর্বতন ২৬টি গিল্ডের কাঠামো ভেঙে দিয়ে এখন থেকে ‘Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation’ (EIMPCC)-এর অধীনে নতুনভাবে পথ চলা শুরু হবে। কাজের সুবিধার্থে পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রধানত চারটি মূল বিভাগে ভাগ করা হয়েছে— ‘সিনেম্যাটোগ্রাফি’, ‘পরিচালক’, ‘প্রোডাকশন কন্ট্রোলার’ এবং ‘আর্ট অ্যান্ড কস্টিউম’।

নতুন এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি টলিউডের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত বছরগুলিতে বিপুল অর্থের বিনিময়ে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি টলিউডে কাজের সুযোগ পেয়েছেন, যার ফলে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এই দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে টলিউডে ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিকে যারা এতদিন শোষণ করেছেন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তাদের স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্তদের একটি তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে, যা আপাতত প্রশাসনের হাতে তুলে না দেওয়া হলেও আগামী দিনে পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত রয়েছে। এই আমূল সংস্কারের মাধ্যমে স্থবির হয়ে পড়া বাংলা সিনেমার ব্যবসাকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং টালিগঞ্জের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *