হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল, বিরোধী দলনেতার কুরসিতে বহাল ঋতব্রত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে শাসক দলের দায়ের করা মামলাটিতে বড়সড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করতে অস্বীকার করেছে। আদালতের এই রায়ের ফলে আপাতত বিরোধী দলনেতার পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বহাল থাকছেন।
স্পিকারের সিদ্ধান্তে সায় আদালতের
বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়ায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয় যে, স্পিকার বিধানসভার ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ভারসাম্য লঙ্ঘন করে একজন বিদ্রোহী নেতাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। তাদের দাবি ছিল, দলের বিধায়ক সংখ্যা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা না করে স্পিকার একতরফাভাবে এই নিয়োগ করেছেন। তবে শুনানিতে আদালত তৃণমূলের সেই দাবি গ্রহণ করেনি এবং আপাতত স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
নির্বাচনের পর দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে পড়ে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতার পদে আসীন হওয়া তৃণমূলের কাছে এক বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল বিধানসভার ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যখন দলবদলের জল্পনা বাড়ছে এবং ফিরহাদ হাকিমের মতো সিনিয়র নেতাদের বিদ্রোহী শিবিরের সাথে যোগাযোগের খবর সামনে আসছে, তখন আদালতের এই নির্দেশ ঋতব্রতদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল। হাইকোর্ট আগামী ১৬ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। সেদিন দুই পক্ষের বিস্তারিত যুক্তিতর্কের ওপর নির্ভর করবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং রাজ্যের বিরোধী রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে।