গুণগত মানে বড়সড় ধাক্কা! জ্বর-ব্যথার ওষুধ-সহ ৩৬টি ওষুধ বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

গুণগত মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় রাজ্যজুড়ে ৩৬টি নির্দিষ্ট ব্যাচের ওষুধের বিক্রি অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল। ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের সাম্প্রতিক পরীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের বহুল ব্যবহৃত একাধিক ওষুধের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। নিষিদ্ধ হওয়া এই তালিকার মধ্যে রয়েছে জ্বর, ব্যথা, ডায়াবেটিস, তীব্র অ্যাসিডিটি, ডায়েরিয়া ও ইনফেকশনের মতো অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ। এছাড়া সাধারণ কাফ সিরাপ, ভিটামিন, এমনকি অ্যাজমা ও অ্যালার্জির চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইনজেকশনও মানদণ্ডে ফেল করেছে। সেন্ট্রাল ড্রাগ কন্ট্রোলের কড়া নির্দেশের পর রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগও অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তৎপর হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে সমস্ত পাইকারি ও খুচরো ফার্মেসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন এই নির্দিষ্ট ওষুধগুলির বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করা হয় এবং বাজার থেকে দ্রুত সেগুলি তুলে নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের মানহীন ওষুধ সেবনে ব্যাধি তো সারবেই না, বরং রোগীদের শরীরে তৈরি হতে পারে মারাত্মক ও জটিল শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। ডায়াবেটিস বা পেটের ঘায়ের মতো সমস্যায় ভুল বা নিম্নমানের ওষুধ খেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ড্রাগ ইন্সপেক্টরদের একটি বিশেষ টিম ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ফার্মেসিগুলিতে ঝটিকা অভিযান চালাতে শুরু করেছে। বাজারে ছড়িয়ে থাকা বাকি নিম্নমানের ব্যাচগুলি বাজেয়াপ্ত করতে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সাথেও প্রতিনিয়ত সমন্বয় রাখা হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে চিকিৎসকের সঠিক প্রেসক্রিপশন ছাড়া বা ড্রাগ কন্ট্রোল নির্দেশিত সতর্কবার্তা না মেনে নিজের ইচ্ছামতো মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড কিংবা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করার কঠোর পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।