বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে স্বস্তিতে মহম্মদ মোত্তাকিন

কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক মহম্মদ মোত্তাকিন আলমের মনোনয়ন ঘিরে চলা টানাপোড়েনের অবসান ঘটল। বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান এবং নামের বানান বিভ্রাটের অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা মনোনয়ন বাতিলের ভিত্তি হতে পারে না।
মোত্তাকিনের নথিপত্রে নামের বানানে কিছু অসামঞ্জস্য থাকলেও ট্রাইব্যুনাল সেগুলিকে বড় কোনো ত্রুটি হিসেবে গণ্য করেনি। তদন্তে দেখা গেছে, মোত্তাকিনের পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, আধার এবং ভোটার কার্ডে তাঁর বাবার নাম বিভিন্নভাবে লেখা থাকলেও সব ক্ষেত্রে ভোটার কার্ড নম্বরটি একই ছিল। ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের বিধায়ক হওয়ার শংসাপত্র পর্যন্ত সমস্ত নথিতে তথ্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় ট্রাইব্যুনাল কোনো গুরুতর অসঙ্গতি খুঁজে পায়নি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান নিয়ে প্রশাসনের প্রশ্ন তোলার এক্তিয়ার নিয়ে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ। ট্রাইব্যুনাল সাফ জানিয়েছে, ৫০ বছরের বয়সের ফারাক কখনোই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কারণ হতে পারে না। এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণের পরই মোত্তাকিনের নাম ভোটার তালিকায় বহাল রাখার এবং তাঁর আবেদনের নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।