বন্ধ হচ্ছে ধর্মীয় ভাতা, মেধার বিকাশে ফিরছে বিবেকানন্দ স্কলারশিপ!

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল ও সংস্কারের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা দেওয়ার একটি অনুষ্ঠান থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দুটি ঘোষণা করেন তিনি। প্রথমত, রাজ্যে সমস্ত ধরনের ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে সেই অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির ওপর কড়া নজরদারির বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের এই জোড়া সিদ্ধান্ত রাজ্যের শিক্ষা রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ধর্মীয় ভাতা বন্ধ ও বিবেকানন্দ স্কলারশিপের প্রত্যাবর্তন
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্য ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এখন থেকে সমস্ত ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে পুনরায় চালু করা হচ্ছে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যোজনা’। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো, আধুনিক শিক্ষার আলো যাতে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় পৌঁছায় এবং অর্থ যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। এই স্কলারশিপের আওতায় জাতি, ধর্ম বা রাজনৈতিক রঙ নির্বিশেষে সমস্ত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা আর্থিক সহায়তা পাবেন। সরাসরি শিক্ষা দফতর ও মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে, যা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেসরকারি স্কুলগুলোকে কড়া বার্তা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার আহ্বান
ফি কাঠামো এবং মেধার মূল্যায়ন নিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বর্ধিত বেতনের চাপ কমাতে বেসরকারি স্কুলগুলোকে সংযত হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না করে যাতে সরকারকে বিব্রত হতে হয় কিংবা সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়।
পাশাপাশি, বেসরকারি স্কুলগুলোর মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও পাস করা সহজ হলেও, সঠিক মূল্যায়নের অভাবে অনেক সময় মেধার অপচয় হচ্ছে। এর ফলে সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা যখন প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন এক আসাম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে এবং একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে বেসরকারি স্কুলগুলোকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সরকারের এই কড়া অবস্থানের ফলে আগামী দিনে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।