মহিলা সুরক্ষায় ময়দানে দময়ন্তী সেন, পূর্বতন সরকারের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে জোড়া কমিশন গঠন শুভেন্দু সরকারের

মহিলা সুরক্ষায় ময়দানে দময়ন্তী সেন, পূর্বতন সরকারের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে জোড়া কমিশন গঠন শুভেন্দু সরকারের

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরপরই বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল নতুন বিজেপি সরকার। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপি এবং রাজ্যজুড়ে নারী ও শিশুদের ওপর হওয়া অত্যাচারের ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। সোমবার নতুন সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে এই দুটি কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাজ শুরু করতে চলেছে।

দুর্নীতি দমনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্ব

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে কাটমানি, ঘুষ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছিল, তা খতিয়ে দেখবে প্রথম কমিশনটি। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইপিএস অফিসার কে জয়রামণ। এই কমিশন সরকারি আধিকারিক, পঞ্চায়েত সদস্য, কাউন্সিলর বা দালাল চক্রের দুর্নীতির খতিয়ান খতিয়ে দেখবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কমিশন কাজ শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিতে পারবে এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি লুণ্ঠিত সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

নারী সুরক্ষায় বড় দায়িত্বে দময়ন্তী সেন

গত কয়েক বছরে রাজ্যে মহিলা ও শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া একাধিক অত্যাচারের ঘটনা খতিয়ে দেখতে দ্বিতীয় কমিশনটি গঠন করা হয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই কমিশনের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে এবং সদস্যসচিবের বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে। কেন্দ্রীয় সংস্থা বা আদালতের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট কিছু মামলা ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত ঘটনার এফআইআর এবং চার্জশিট নতুন করে খতিয়ে দেখবে এই কমিশন। মানুষের অভিযোগ শুনতে কমিশনের প্রতিনিধিরা জেলায় জেলায় পরিদর্শনে যাবেন এবং আগামী দেড় মাসের মধ্যে প্রাথমিক সুপারিশ জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই জোড়া কমিশন গঠনের মাধ্যমে নতুন শাসকদল পূর্বতন সরকারের আমলের অনিয়মগুলির বিরুদ্ধে একটি কড়া বার্তা দিতে চাইল। একদিকে যেমন কাটমানি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির উৎস খোঁজার চেষ্টা করা হবে, ঠিক অন্যদিকে নারী সুরক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করে জনমানসে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে বর্তমান প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে রাজ্যের সাধারণ মানুষকে এই কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *