‘সবেমাত্র সকাল হয়েছে, ছবি বিক্রিও সামনে আসবে’: হুঙ্কার শুভেন্দুর

বিগত সরকারের জমানার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি ও কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির লাগাতার অভিযানের মাঝেই এবার দীর্ঘদিনের পুরোনো সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক জল্পনা উস্কে দিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের এক দলীয় কর্মসূচি থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, এবার ইডি (ED) বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সারদা জমানার বহু চর্চিত ‘ছবি বিক্রি’র ফাইল নতুন করে খুলতে চলেছে। শুভেন্দু অধিকারী কারও নাম না করলেও তাঁর এই আক্রমণের তির যে সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই, তা বুঝতে বাকি থাকেনি রাজনৈতিক মহলের।
‘সবেমাত্র সকাল হয়েছে, ছবি বিক্রিও সামনে আসবে’: রামনগরে হুঙ্কার শুভেন্দুর
রামনগরের সভা থেকে রাজ্যের তৎকালীন হেভিওয়েট দুর্নীতিগ্রস্তদের এক এক করে শ্রীঘরে যাওয়ার প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
‘‘রাজ্যে ‘অপা’ সিন্ডিকেট ধরা পড়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলে গিয়েছেন। অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টও তিহাড় জেলের পথে। কিন্তু মনে রাখবেন, সবেমাত্র সকাল হয়েছে। আজ আবার টিভিতে দেখাচ্ছে, ইডি নাকি আরও সক্রিয় হচ্ছে। এবার সারদা জমানার ছবি বিক্রিটাও তারা তদন্তের মাধ্যমে সামনে আনবে।’’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরুর পর থেকেই বিরোধীরা বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে, সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন নাকি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবি কোটি কোটি টাকা খরচ করে কিনেছিলেন। সেই বিতর্কিত বিষয়টিকে ফের ইডি ময়দানে টেনে আনছে বলে শুভেন্দুর এই আগাম দাবি রাজ্য রাজনীতিতে মস্ত বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনাচক্রে, এর ঠিক আগের দিনই কলকাতা হাইকোর্টের দুই বিচারপতিও শিক্ষক নিয়োগ মামলার শুনানির সময় সারদা ও নারদ মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ইডি-র জনসংযোগ আধিকারিক নাকি শুভেন্দু? পাল্টা তীব্র কটাক্ষ কুণাল ঘোষের
শুভেন্দু অধিকারীর এই আগাম ডিক্লেয়ারেশনের পাল্টা জবাব দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তৎকালীন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে শুভেন্দুকে তীব্র আক্রমণ শানান। কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন:
- এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: ওঁর (শুভেন্দু) মুখ থেকে যদি ২০১৩ সালের একটি ৯ বছরের পুরোনো মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বা তদন্তের নকশা আগে থেকে জানা যায়, তবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরপেক্ষতা আর কোথায় থাকল? এতেই প্রমাণিত যে বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইডি-সিবিআই-কে ব্যবহার করছে।
- বিস্ফোরক খোঁচা: কুণাল বাবু আরও যোগ করেন, “সারদা বা ছবি বিক্রি নিয়ে ইডির তরফে অফিশিয়ালি এখনও কিছু বলা হয়নি। শুভেন্দু অধিকারী ইডি-র নতুন জনসংযোগ আধিকারিক (PRO) নিযুক্ত হয়েছেন কি না, তা এবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া উচিত।”
বিজেপির এই আগাম হুঁশিয়ারি এবং তৃণমূলের তীব্র প্রতিরোধের জেরে ছাব্বিশের মসনদ বদলের অনেক আগেই সারদা তদন্তের এই পুরোনো ‘ছবি’ নতুন করে রাজনৈতিক মহলে এক মস্ত বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।