১ কোটি মাথার দাম! শীর্ষ নেতা মিসির বেসরাসহ ঝাড়খণ্ডে একযোগে ২৭ মাওবাদীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ

১ কোটি মাথার দাম! শীর্ষ নেতা মিসির বেসরাসহ ঝাড়খণ্ডে একযোগে ২৭ মাওবাদীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ

পশ্চিমবঙ্গের ভাটপাড়া-কালনায় তৃণমূল নেতাদের ধরপাকড় এবং কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিবের হাই-প্রোফাইল সফরের মাঝেই, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও মাওবাদী দমন অভিযানে এক ঐতিহাসিক সাফল্য মিলল। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ তৎপরতায় একযোগে আত্মসমর্পণ করলেন ২৭ জন কট্টর মাওবাদী সদস্য। আত্মসমর্পণকারীদের কাছে থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ।

সবচেয়ে বড় চমক, আত্মসমর্পণকারী এই দলের মধ্যেই রয়েছেন ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ এবং মোস্ট ওয়ান্টেড নেতা মিসির বেসরা। দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন রাজ্যগুলির ত্রাস এই মাওবাদী নেতার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল নগদ ১ কোটি টাকা।

সারান্ডার ‘ত্রাস’ এখন পুলিশের জালে, আত্মসমর্পণ হেভিওয়েট কমান্ডারদের

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধৃত শীর্ষ নেতা মিসির বেসরা মূলত ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার ঘন জঙ্গলঘেরা ‘সারান্ডা’ অঞ্চলে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ওই বিস্তীর্ণ জঙ্গলমহল এলাকায় মাওবাদী পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখা এবং একাধিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মূল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হতো তাঁর নেতৃত্বেই। তাঁর আত্মসমর্পণ ভারতের মাওবাদী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিকে একবারে ভেঙে দিল বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

এদিনের এই মেগা আত্মসমর্পণের মূল খতিয়ান:

  • শীর্ষ নেতৃত্ব: ১ কোটি টাকা ইনামি শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা।
  • সাব-জোনাল কমান্ডার: মাওবাদীদের সামরিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ৭ জন সাব-জোনাল কমান্ডার।
  • এরিয়া কমান্ডার: নির্দিষ্ট জেলা ও ব্লক স্তরে নাশকতার দায়িত্বে থাকা ৬ জন এরিয়া কমান্ডার।

মূলস্রোতে ফেরার বার্তা, বড় ধাক্কা লাল করিডোরে

পুলিশ জানিয়েছে, সরকারের পুনর্বাসন নীতি (Surrender Policy) এবং জঙ্গলমহলে একের পর এক যৌথ বাহিনীর কড়া ক্যাম্প গড়ে ওঠার জেরেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল এই মাওবাদী দলটি। অবশেষে হিংসার পথ ছেড়ে স্রেফ বেঁচে থাকার তাগিদে এবং সমাজের মূলস্রোতে ফিরতেই রাঁচি পুলিশ সদর দফতরে এসে অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ তারা আত্মসমর্পণ করে।

জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও পরিকাঠামো সরলীকরণের ওপর জোর দিচ্ছেন, ঠিক তখনই লাল করিডোরের (Red Corridor) এই মেগা পতন দেশজুড়ে মাওবাদী নেটওয়ার্কের কোমর পুরোপুরি ভেঙে দিল। এই আত্মসমর্পণের ফলে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং বাংলার জঙ্গলমহল সীমান্তে মাওবাদী তৎপরতা আগামী দিনে অনেকটাই শূন্যে নেমে আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *