গির অরণ্যে ভাইরাসের থাবা, মৃত ৭ সিংহ ও কোয়ারেন্টাইনে ১৭

গির অরণ্যে ভাইরাসের থাবা, মৃত ৭ সিংহ ও কোয়ারেন্টাইনে ১৭

বিশ্বের একমাত্র এশীয় সিংহের বাসস্থান গুজরাতের গির অরণ্যে থাবা বসিয়েছে এক রহস্যময় ভাইরাস। গত কয়েকদিনে সেখানে একের পর এক ৭টি সিংহের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ানোর পাশাপাশি চরম উদ্বেগে পড়েছে প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই ১৭টি সিংহকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।

সংক্রমণের কারণ ও উদ্বেগ

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গির অরণ্যের সিংহদের মৃত্যুর পেছনে ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাস (CDV) এবং বাবেসিয়া (Babesia) নামক পরজীবী সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজ্যসভার সাংসদ ও পশুপ্ৰেমী পরিমল নাথওয়ানি এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বনমন্ত্রীদের চিঠি লিখে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। গির গাধাদা এবং বাবরিয়া এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। মৃত সিংহগুলির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যার চূড়ান্ত রিপোর্ট আসতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। আপাতত আক্রান্ত সিংহদের চিকিৎসার জন্য ১২ জন অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের একটি বিশেষ দল দিনরাত কাজ করছে।

প্রশাসনের তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

গ্রীষ্মের শুরুতে এই ধরনের মৌসুমি রোগ ছড়িয়ে পড়া রুখতে গির অঞ্চলের ৩৫০টিরও বেশি সিংহের স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং ডি-টিকিং প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই কাজে জুনাগড় ভেটেরিনারি কলেজের বিশেষজ্ঞরা যুক্ত রয়েছেন। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাসের সংক্রমণ যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা গিরের এশীয় সিংহের সামগ্রিক জনসংখ্যার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জামনগর, সুরাত, রাজকোট, কচ্ছ ও জুনাগড় থেকে অভিজ্ঞ বন আধিকারিকদের গিরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন বনকর্মী আক্রান্ত এলাকায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *