উর্মিলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন বিজয়, মিলল মুখ বন্ধ রাখার হুমকি!

নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি: রাজ্যের মহিলাদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাওয়ার এক চরম চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন অভিযোগ উঠল হুগলির রিষড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে। জনাদেশ পরিবর্তনের আবহে সরকারি প্রকল্পের এই মারাত্মক গোলমাল সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুরো ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শেষ পর্যন্ত রিষড়া থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী ওই মহিলা।
উর্মিলার টাকা পাচ্ছেন বিজয়, মিলল মুখ বন্ধ রাখার হুমকি!
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রিষড়ার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উর্মিলা দেবী গত ২০২৪ সালে নিয়ম মেনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। ফর্ম জমা দেওয়ার পর সরকারি পোর্টালের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর নিজের ব্যাঙ্কের খাতায় কোনো টাকা ঢুকছিল না। দিনের পর দিন অপেক্ষা করার পর, অবশেষে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি নিজের ব্যাঙ্কে যান।
ব্যাঙ্কে গিয়ে নথিপত্র পরীক্ষা করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় উর্মিলার। তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামের বরাদ্দ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়মিত ঢুকে যাচ্ছে বিজয় সাউ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। এই চরম জালিয়াতির কথা জানতে পেরে উর্মিলা দেবী যখন অভিযুক্ত বিজয়ের কাছে যান, তখন টাকা ফেরত দেওয়া বা ভুল সংশোধনের পরিবর্তে উল্টে তাঁকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য চরম হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তে রিষড়া থানা, বাড়ছে ক্ষোভ
প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে কীভাবে একজন মহিলার জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রকল্পের টাকা সম্পূর্ণ অন্য এক পুরুষের অ্যাকাউন্টে দিনের পর দিন চলে গেল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আশঙ্কা, এর নেপথ্যে কোনো বড়সড় লিঙ্ক বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি জড়িত থাকতে পারে। অভিযুক্তের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার পর উর্মিলা দেবী আর ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি রিষড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাঙ্কের নথি খতিয়ে দেখে এই জালিয়াতির তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার জেরে রিষড়া পুরসভা এলাকায় উপভোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।