আজ রাস্তায় অভিষেক! ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে চলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ

আজ রাস্তায় অভিষেক! ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে চলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর থেকে কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের সংসদীয় এলাকা কিংবা দলীয় কার্যালয় ছেড়ে নিজের গণ্ডি কালীঘাটের বাসভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে দীর্ঘ ২৬ দিন পর, আজ শনিবার মে মাসের শেষ দিনে রাজপথে নামছেন অভিষেক। সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটার দুই ‘আক্রান্ত’ তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ তাঁর যাওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর এই প্রথম তাঁর মাঠে নামাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।

ভীত ও বিধ্বস্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিগত শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠছিল। সোনারপুর দক্ষিণ এবং কলকাতার বেলেঘাটায় আক্রান্ত হওয়া দুই সক্রিয় তৃণমূল কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দল যে তাঁদের সঙ্গেই আছে, আজ সেই বার্তাই দিতে চান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের চার দেওয়াল থেকে বেরিয়ে তাঁর এই সফর মূলত দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটা মরিয়া চেষ্টা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূলে কি ফিরবে অক্সিজেন, নাকি বাড়বে নতুন ক্ষত?

অভিষেকের এই আকস্মিক রাস্তায় নামা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে:

  • উজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা: দলের একাংশের মতে, বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে সেনাপতি নিজেই যখন রাস্তায় নামছেন, তখন তা রাজ্যজুড়ে নিষ্ক্রিয় ও ঘরে বসে যাওয়া তৃণমূল কর্মীদের নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ময়দানে থাকলে কর্মীরা নতুন করে লড়াইয়ের সাহস পাবেন।
  • বিক্ষোভ ও নতুন ক্ষতের আশঙ্কা: অন্য অংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর পুলিশ ও প্রশাসনের রাশ এখন আর তৃণমূলের হাতে নেই। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে যদি স্থানীয় স্তরে কোনো ক্ষোভ বা বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তা রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত তৃণমূল শিবিরের অন্দরে নতুন করে বড়সড় ক্ষত তৈরি করতে পারে।

আজকের এই সফরের ওপর শুধু দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা বা কলকাতা নয়, বরং গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক নজর রয়েছে। বিরোধী হাওয়া ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যে দাঁড়িয়ে অভিষেক কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং কর্মীদের কতটা উজ্জীবিত করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *