তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, অভিষেকের পুরনো ‘দরজা’ মন্তব্য মনে করিয়ে তীব্র খোঁচা দিলীপের

তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, অভিষেকের পুরনো ‘দরজা’ মন্তব্য মনে করিয়ে তীব্র খোঁচা দিলীপের

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঠিক চার বছর আগে, ২০২২ সালে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে বিজেপির নেতারা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তিনি ‘দরজা’ খুললে বিজেপি উড়ে যাবে। ২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে যাওয়ায় সেই পুরনো মন্তব্যকেই অস্ত্র করে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর পাল্টা দাবি, বিজেপির দরজা বন্ধ থাকার কারণেই আজ তৃণমূল দলটাই কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

উল্টে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ২০০ আসন পার করার লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপি নেতাদের দলবদলের হিড়িক নিয়ে অহংকার প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর মাত্র এক মাসের মধ্যে ২৮ বছরের পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। একের পর এক শীর্ষ নেতার দলত্যাগ এবং ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

নেতৃত্বের বিরোধ ও প্রভাব

তৃণমূলের এই আকস্মিক ভাঙনের নেপথ্যে দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফিরহাদ হাকিমের মতো প্রবীণ নেতাদের অবস্থান বদল এবং হুমায়ুন কবীরের দলত্যাগ এই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। দিলীপ ঘোষের মতে, তৃণমূল নেতৃত্ব হিন্দু ও মুসলিম উভয় সমাজকেই ধোঁকা দিয়েছে, যার ফলস্বরূপ এই বিপর্যয়। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে রাজ্যের শাসক শিবিরে যেমন চরম নেতৃত্বসংকট তৈরি হয়েছে, তেমনই এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা ও আগামী দিনের নির্বাচনী সমীকরণে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *