কলকাতা পুরসভাতেও কি এবার ‘নতুন তৃণমূল’, ফিরহাদকে ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট!

কলকাতা পুরসভাতেও কি এবার ‘নতুন তৃণমূল’, ফিরহাদকে ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট!

রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার অন্দরে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিষদীয় দলের পর এবার খোদ কলকাতা পুরসভা বা ‘ছোট লালবাড়ি’র নিয়ন্ত্রণও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিধানসভার ধাঁচেই পুরসভাতেও এখন ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশের জল্পনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যে একাধিক বরো চেয়ারম্যান ও প্রথম সারির কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। কাউন্সিলরদের বড় অংশ পুরসভামুখো না হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা ও নিত্যনৈমিত্তিক কাজকর্ম কার্যত লাটে উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকেও বহু কাউন্সিলরের গরহাজির থাকা এই সংকটকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ফিরহাদকে নিয়ে টানাপোড়েন ও শোভন-প্রসঙ্গ

পুরসভার এই অচলাবস্থার মাঝেই মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের জল্পনা তীব্র হয়েছে। নবান্নের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফিরহাদের সৌজন্য বিনিময় এবং কালীঘাটের দলীয় বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি তৃণমূলনেত্রীর অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের খবর, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর যেকোনো উপায়ে কলকাতা পুরসভার রাশ ধরে রাখতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে ফিরহাদের বিকল্প হিসেবে পুরনো চালিয়াৎ শোভন চট্টোপাধ্যায়কে পুনরায় মেয়র পদে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছেন তিনি। বর্তমান পুর আইন অনুযায়ী কাউন্সিলর না হয়েও ছ’মাসের জন্য মেয়র হওয়া সম্ভব, যা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও ভাঙনের ইঙ্গিত

ফিরহাদ হাকিমকে দ্রুত পদত্যাগের জন্য দলের ওপর তলা থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তবে বর্তমান মেয়র সসম্মানে পদ ছাড়তে নারাজ হলে পুরসভার অন্দরে বড়সড় বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোরপূর্বক পদত্যাগের চাপ এলে ফিরহাদের নেতৃত্বে কাউন্সিলরদের একটি বড় অংশ কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করতে পারেন। এর ফলে কলকাতা পুরসভাতেও শাসকদলের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটতে পারে, যা সার্বিকভাবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *