মমতাকে বিধানসভায় ফেরানোর দায়িত্ব নিতে চান, রেজিনগরের সমীকরণ নিয়ে বিস্ফোরক হুমায়ুন

মমতাকে বিধানসভায় ফেরানোর দায়িত্ব নিতে চান, রেজিনগরের সমীকরণ নিয়ে বিস্ফোরক হুমায়ুন

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় বিধানসভায় ফিরিয়ে আনার এক অভিনব উপায় বাতলে দিয়েছেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে একবার অনুরোধ করেন, তবে নিজের রাজনৈতিক প্রভাবে রেজিনগর কেন্দ্র থেকে তাঁকে বিধানসভায় জিতিয়ে আনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি নেবেন।

রাজ্যের বর্তমান উত্তাল রাজনীতিতে বিরোধী মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ নেত্রীর বিধানসভায় থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন হুমায়ুন। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের মতো আসনে মমতার জয় কঠিন হলেও রেজিনগরের রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন। ওই কেন্দ্রে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় দলকেই বিপুল ভোটে পরাজিত করার উদাহরণ টেনে হুমায়ুন নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

তৃণমূলের ভরাডুবি ও নেতৃত্বের সমালোচনা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, অতীতে তাঁর দেওয়া রাজনৈতিক সতর্কবার্তাগুলোকে দল গুরুত্ব দেয়নি বলেই আজ তৃণমূলকে এই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘ধৃতরাষ্ট্রের’ মতো আচরণ করার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী করার অন্ধ মোহেই দলটি রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে দূরে সরে গেছে এবং নির্বাচনে ভরাডুবির মুখে পড়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্দরে যখন নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল ও ভাঙনের জল্পনা তীব্র হচ্ছে, তখন হুমায়ুনের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন একদিকে মমতার জাতীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্বকে স্বীকার করে সৌজন্য দেখিয়েছেন, অন্যদিকে রেজিনগরে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্যের বার্তা দিয়ে তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছেন। এই বিস্ফোরক প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে তৃণমূল শিবির বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কী অবস্থান নেন, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *