মমতার কঠিন সময়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বিদ্রোহী শিবির থেকে দূরে শত্রুঘ্ন সিনহা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাপক দলত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেই আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। সাম্প্রতিক সময়ে দলের একাংশ সাংসদ ও বিধায়কের বিদ্রোহের খবর প্রকাশ্যে আসার পর শত্রুঘ্ন সিনহার নামও বিদ্রোহী শিবিরের তালিকায় উঠে এসেছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বর্ষীয়ান এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ স্পষ্ট করেছেন, এই কঠিন সময়ে তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন।
মমতার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যের বার্তা
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা স্মরণ করেছেন ২০১৯ সালের সেই কঠিন সময়ের কথা, যখন পাটনা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিলেন। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তিনি আসানসোল থেকে নির্বাচনে লড়ে জয়ী হয়েছেন। শত্রুঘ্নর কথায়, তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়া ফুল প্রতীকে দুইবার জয়ী হওয়ার পর এই সংকটের মুহূর্তে দলনেত্রীকে ছেড়ে যাওয়া তাঁর নীতির পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সত্য কথা বলাকে যদি বিদ্রোহ বলা হয়, তবে তিনি সেই অর্থে বিদ্রোহী, কিন্তু দল ভাঙার কোনো প্রক্রিয়ায় তিনি যুক্ত নন।
মোদীকে শুভেচ্ছা ও রাজনীতির সমীকরণ
তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকা নিয়ে চর্চার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন শত্রুঘ্ন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর ১২ বছরের দীর্ঘ কার্যকাল পূর্ণ হওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের অটল আনুগত্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সৌজন্যের রাজনীতি এবং দলীয় আদর্শের মধ্যে তিনি স্পষ্ট বিভাজন বজায় রেখেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের বর্তমান সংকটের মুখে শত্রুঘ্ন সিনহার মতো হেভিওয়েট নেতার মমতার পাশে দাঁড়ানো দলনেত্রীর জন্য স্বস্তির। তবে বিদ্রোহীদের তালিকায় আরও ১৯ জন সাংসদের নাম এবং তাঁদের স্বাক্ষর করার প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা কাটেনি। শত্রুঘ্ন এবং অভিনেতা দেবের মতো তারকা সাংসদরা বিদ্রোহে স্বাক্ষর না করায় বর্তমান অস্থিরতার জল কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।