তৃণমূলের অন্দরে বড় ভাঙন, নেপথ্যের কারিগর কে?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই একটি ক্রিকেট ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করছেন। একসময়ের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তারকারী দল ক্ষমতা হারানোর পর এখন একের পর এক ধাক্কার মুখে দাঁড়িয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই দলত্যাগ, বিদ্রোহ কিংবা নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের মতো ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
বিদ্রোহের নেপথ্যে যাঁদের নাম
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই দলত্যাগের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অসন্তুষ্ট সাংসদদের একত্রিত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বিধানসভার বিদ্রোহী শিবিরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও সামনে আসছে। পাশাপাশি, প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং রাজ্যসভা থেকে সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সুস্মিতার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগই এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে।
কৌশলী চাল ও শুভেন্দু ফ্যাক্টর
বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের নজর রয়েছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব ধীরে ধীরে দলটির ভিত নাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী নিজে দীর্ঘকাল তৃণমূলে থাকায় দলের সাংগঠনিক শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল ছিলেন, যা এই ভাঙনে অনুঘটকের কাজ করেছে। তৃণমূলের এই ধারাবাহিক ভাঙন কেবল ক্ষমতা হারানোর স্বাভাবিক ফল নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। এর ফলে শাসকদলের সাংগঠনিক ভিত্তি যেমন দুর্বল হচ্ছে, তেমনি বিরোধী শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।