দার্জিলিং থেকে গঙ্গাসাগর সংযোগে মেগা হাইওয়ে, কৃষি প্রকল্পে বড় রদবদল আনছে নতুন সরকার

দার্জিলিং থেকে গঙ্গাসাগর সংযোগে মেগা হাইওয়ে, কৃষি প্রকল্পে বড় রদবদল আনছে নতুন সরকার

বাংলায় নতুন সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রশাসনিক পরিবর্তনের তোড়জোড়। সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে কৃষি প্রকল্প—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমূল ভোলবদল আনার ঘোষণা দিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রী অজয় পোদ্দার ও দুধকুমার মণ্ডল। একদিকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গকে সংযুক্ত করতে দীর্ঘ হাইওয়ের পরিকল্পনা, অন্যদিকে রাজ্য পরিচালিত প্রকল্পগুলোকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সরকারের কাজের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

দার্জিলিং থেকে গঙ্গাসাগর মেগা হাইওয়ে

রাজ্যের নতুন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার জানিয়েছেন, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গকে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক পথে যুক্ত করতে ৭৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পূর্ত দফতর। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (NHAI) সাথে যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পের একটি অংশ বিহারের ওপর দিয়েও যাবে। বর্ষা পরবর্তী সময়ে অক্টোবরের পর থেকে রাজ্যে ৯০টি নতুন রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হবে। পরিকাঠামো উন্নয়নে ‘জিরো টলারেন্স ইন কোরাপশন’ নীতি গ্রহণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষক বন্ধু থেকে পিএম কিষাণ রূপান্তর

কৃষি ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ডঙ্কা বাজিয়ে নতুন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, রাজ্যের বর্তমান ‘কৃষক বন্ধু’ ও ‘বাংলা শস্য বিমা’ প্রকল্পকে রাতারাতি কেন্দ্রীয় ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মাননিধি’ (PM Kisan) ও ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’-য় রূপান্তরিত করা হবে। মন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের প্রকল্পের সুবিধাভোগী তালিকায় বড় ধরনের অনিয়ম ও ভুয়ো নামের আধিক্য রয়েছে। তাই পুরো তালিকা তদন্ত সাপেক্ষে ঝাড়াই-বাছাই করা হবে। সারের কালোবাজারি রোধ ও ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং কৃষি উপকরণ চাষিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন সরকার কঠোর নজরদারি চালাবে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

এই জোড়া প্রকল্পের বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন রাজ্যের পরিবহন মানচিত্র বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কৃষি পরিষেবার কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগ নবান্ন ও রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের বাতাবরণ তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *