টলিপাড়ায় বড় রদবদল: ইম্পার সভাপতির পদ ছাড়লেন পিয়া সেনগুপ্ত, নেপথ্যে দুর্নীতির অভিযোগ

টলিপাড়ায় বড় রদবদল: ইম্পার সভাপতির পদ ছাড়লেন পিয়া সেনগুপ্ত, নেপথ্যে দুর্নীতির অভিযোগ

টলিপাড়ার প্রভাবশালী সংগঠন ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা ইম্পা-তে (EIMPA) ক্ষমতার বড় পালাবদল ঘটল। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও আইনি জটিলতার পর অবশেষে ইম্পার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন পিয়া সেনগুপ্ত। শুধু তিনি একাই নন, তাঁর সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনের সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, সহ-সভাপতি সহ কার্যকরী সমিতির আরও আট সদস্য।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ১৬ জুন পিয়া সেনগুপ্ত ও তাঁর অনুগত কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফাপত্র জমা দেন। বর্তমানে সংগঠনের হাল ধরেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি রতন সাহা। রতন সাহার অভিযোগ, পিয়া সেনগুপ্তর সময়কালে গত দু’মাস সংগঠনের প্রশাসনিক কাজ কার্যত বন্ধ ছিল। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কক্ষগুলি তালাবন্ধ থাকায় কাজের গতি রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।

কেন এই পরিস্থিতি? দীর্ঘদিন ধরেই পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ, দুর্নীতি এবং সংগঠনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলছিলেন প্রযোজক ও পরিবেশকদের একাংশ। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে ওঠে যে বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, ইম্পাকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল।

আদালতের পথে সমাধান: সংগঠনের অচলাবস্থা কাটাতে রতন সাহা ও তাঁর দল এখন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের মূল দাবি—বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত নতুন নির্বাচন আয়োজন করা হোক। প্রয়োজনে আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করে দিলে জট দ্রুত খুলবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

ভবিষ্যৎ কী? গত ১৩ জুলাই এক সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলবস্থার কথা তুলে ধরা হয়। এখন প্রশ্ন একটাই, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে ইম্পা তার দৈনন্দিন কাজ সামলাবে এবং টলিপাড়ার প্রযোজক-পরিবেশকদের সংকটের সুরাহা কবে হবে? যদিও পিয়া সেনগুপ্ত বর্তমানে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে আদালত ও সংগঠনের এই নাটকীয় মোড় টলিপাড়ার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *