১৭৪ দেশের জিডিপি-কে টেক্কা! বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ ইলন মাস্ক, মুছবে কি পৃথিবীর দারিদ্র্য?

নিউ ইয়র্ক: বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকায় এক নয়া ইতিহাস তৈরি করলেন ইলন মাস্ক। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম অফিশিয়াল ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ বা খড়বপতি হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি। শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) মার্কিন শেয়ার বাজার ‘ন্যাসডাক’ (Nasdaq)-এ মাস্কের রকেট প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘স্পেস এক্স’ (SpaceX)-এর লিস্টিং হতেই এই অবিশ্বাস্য নজির তৈরি হয়েছে। ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১৬৮ লক্ষ কোটি টাকা) বিশাল ভ্যালুয়েশন নিয়ে বাজারে পা রেখেছে স্পেসএক্স।
ফোর্বসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এত দিন মাস্কের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৮২ বিলিয়ন ডলার। স্পেসএক্স-এর আইপিও (IPO) বাজারে আসতেই সেই শেয়ারের দাম রকেটের গতিতে বাড়ে, যার ফলে মাস্কের মোট সম্পদ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার করে যায়। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৯৫.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা। হিসাব কষলে দেখা যাবে, মাস্ক যদি প্রতি ঘণ্টায় ১০ কোটি টাকা করেও খরচ করেন, তাও এই বিপুল সম্পত্তি শেষ হতে সময় লাগবে পাক্কা ১৪৪ বছর!
১৭৪টি দেশের সম্মিলিত জিডিপির চেয়েও ধনী মাস্ক!
১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ কতটা বিশাল, তা শুনলে চোখ কপালে উঠবে। বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের জিডিপি (GDP) ইলন মাস্কের সম্পত্তির চেয়ে বেশি। বাকি ১৭৪টি দেশের মোট অর্থনৈতিক পরিমাণের (GDP) চেয়েও একা মাস্কের সম্পত্তি অনেক বেশি। এমনকি তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন বা সিঙ্গাপুরের মতো সমৃদ্ধ দেশের অর্থনীতিকেও পেছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি।
পৃথিবীর সব মানুষকে টাকা বিলিয়ে দিলে কী হবে?
বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮২৯ কোটি। ইলন মাস্ক যদি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেন, তবে প্রত্যেকে পাবেন প্রায় ১২১ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১,৫০০ টাকা)। যদিও মাস্ক ইতিমধ্যেই তাঁর সম্পত্তির অর্ধেক অংশ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তাহলে কি ঘুচবে বিশ্বের দারিদ্র্য ও ক্ষুধা?
অক্সফ্যাম এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) মতে, ১ ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে পৃথিবীর ক্ষুধা ও দারিদ্র্য সাময়িকভাবে মেটানো সম্ভব হলেও, তা স্থায়ী সমাধান নয়।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ: ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৭০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন। মাস্ক যদি তাঁর পুরো সম্পত্তি শুধুমাত্র এই ৭০ কোটি মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেন, তবে মাথাপিছু পড়বে প্রায় ১,৪৩০ ডলার (প্রায় ১.২ লক্ষ টাকা)। এতে বহু দরিদ্র পরিবারের জীবনযাত্রার মান অবশ্যই বদলে যাবে, কিন্তু দেশ থেকে দারিদ্র্য পুরোপুরি নির্মূল হবে না। কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যেই এই টাকা খরচ হয়ে যাবে।
- ক্ষুধা সমস্যা: রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট বলছে, পৃথিবীতে ক্ষুধার সমস্যা শুধু টাকার অভাবে নয়; এর পেছনে রয়েছে যুদ্ধবিগ্রহ, জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change), ত্রুটিপূর্ণ বণ্টন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা। তাই কোনো একক ব্যক্তির সম্পত্তি দিয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও ক্ষুধার মূল কারণ উপড়ে ফেলা আসাম্ভব।
কীভাবে এই টাকা বিশ্বের কল্যাণে লাগতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলন মাস্ক যদি টাকা সরাসরি দান না করে দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা নেন, তবে বিশ্বের ছবিটা বদলে যেতে পারে:
- অনুন্নত দেশগুলোতে খাদ্য বণ্টন নেটওয়ার্ক তৈরি ও রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম’-এ বড় তহবিল দেওয়া।
- পিছিয়ে পড়া দেশগুলোতে লাখ লাখ স্কুল তৈরি ও বিনামূল্যে অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
- ক্যান্সার বা অ্যালঝাইমারের মতো মারণ রোগের গবেষণায় বড় বিনিয়োগ।
- জলসংকটে থাকা দেশগুলোতে গ্রিন এনার্জি ও পানীয় জলের পাইপলাইন প্রজেক্ট তৈরি।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নতুন ফ্যাক্টরি ও টেকনোলজি হাব তৈরি করে কৃত্রিম মেধা (AI) ও ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।