৪ বিয়ে, প্রেমিকার লাশের পাশে কাটল গোটা রাত! জানালা দিয়ে দৃশ্য দেখে শিউরে উঠলেন প্রতিবেশীরা

চেন্নাই: পরকীয়া এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল তামিলনাড়ুর শ্রীপেরামবুদুর। লিভ-ইন পার্টনারকে পিটিয়ে খুন করার পর, সেই লাশের পাশেই অঘোরে রাত কাটালো প্রেমিক। পরদিন সকালে জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হয় প্রতিবেশীদের। কাঞ্চীপুরম জেলার মাডামপাক্কাম কাভানুর পঞ্চায়েত এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত মহিলার নাম রঞ্জনী (৩৪)। তাঁর জীবনের ইতিহাস বেশ নাটকীয়। ১৫ বছর আগে সত্য নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল, তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্সের পর অসিন নামে এক যুবককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু পাঁচ বছর আগে দ্বিতীয় স্বামী আত্মহত্যা করেন। এরপর আজহার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে জড়ালেও তা টেকেনি। সবশেষে সালেম এলাকার বাসিন্দা সেন্থিল নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
আইনি বিয়ে না করলেও রঞ্জনী ও সেন্থিল তিরুত্তাভেলি গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মতোই লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতেন। ঘটনার রাতে দুজনে মিলে অতিরিক্ত মদ্যপান করেন। নেশার ঘোরে দুজনের মধ্যে পুরোনো কোনো বিষয় নিয়ে তুমুল ঝামেলা শুরু হয়। রাগ সামলাতে না পেরে সেন্থিল রঞ্জনীর ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। মারের চোটে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতেই ছটফট করতে করতে মারা যান রঞ্জনী।
লাশের পাশে রাতভর ঘুম, সকালে পালালো খুনি:
নেশার ঘোরে বুঁদ হয়ে থাকা সেন্থিল বুঝতেই পারেনি যে রঞ্জনী মারা গেছেন। সে নির্বিকারভাবে ওই লাশের পাশেই শুয়ে পড়ে এবং রাতভর ঘুমায়। পরদিন সকালে নেশা কাটলে রঞ্জনীর নিথর দেহ দেখে তার হুঁশ ফেরে। পুলিশের জালে ধরা পড়ার ভয়ে সে তড়িঘড়ি ঘর ছেড়ে চম্পট দেয়।
রঞ্জনী প্রতিদিন খুব ভোরে উঠলেও সেদিন বেলা গড়ানোর পরও ঘর থেকে না বেরোনোয় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতর উঁকি দিতেই আঁতকে ওঠেন। মেঝেতে রক্তে ভেসে যাচ্ছে রঞ্জনীর দেহ। খবর পেয়ে পদপ্পাই থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ক্রোমপেট সরকারি হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে পলাতক প্রেমিক সেন্থিলের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।