‘কার সাথে কথা বলছিস?’ ফোনে ব্যস্ত থাকাই কাল! প্রেমিকার বুকে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মেরে মাঝরাস্তায় খুন

‘কার সাথে কথা বলছিস?’ ফোনে ব্যস্ত থাকাই কাল! প্রেমিকার বুকে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মেরে মাঝরাস্তায় খুন

নেল্লোর: পরকীয়া সম্পর্কের জেরে তৈরি হওয়া তীব্র সন্দেহ কেড়ে নিল এক যুবতীর প্রাণ। “ফোনে তুই কার সাথে এত কথা বলছিস?”—এই সন্দেহের বশে প্রকাশ্য দিবালোকে, জনবহুল মাঝরাস্তায় প্রেমিকাকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করল প্রেমিক। অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর জেলার এই হাড়হিম করা ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সংসার ভেঙেছিল আগেই, জড়িয়েছিলেন পরকীয়ায়:

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবতীর নাম রেবতী (৩৩)। ১৭ বছর আগে সুমনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির জেরে স্বামীর ঘর ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসেন রেবতী। সংসার চালাতে স্থানীয় একটি কাপড়ের দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানেই তাঁর আলাপ হয় শ্রীকান্ত নামে এক যুবকের সঙ্গে। গত তিন বছর ধরে তাঁদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ফোনে কথা বলা নিয়েই বিবাদের সূত্রপাত:

সম্প্রতি শ্রীকান্ত লক্ষ্য করে যে রেবতী মোবাইলে বড্ড বেশি সময় কাটাচ্ছেন। এর পরেই রেবতীর চরিত্র নিয়ে শ্রীকান্তর মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। “আমাকে ছেড়ে তুই অন্য কার সঙ্গে এত কথা বলছিস?”—এই নিয়ে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে চরম অশান্তি হতো। শ্রীকান্তর এই মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গত কয়েকদিন ধরে রেবতী তাঁর সাথে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

মাঝরাস্তায় ওত পেতে নৃশংস হামলা:

ঘটনার দিন দুপুরে রেবতী তাঁর সিকিউরিটি গার্ড বাবার জন্য খাবার দিয়ে স্কুটার নিয়ে পেট্রোল পাম্পের দিকে যাচ্ছিলেন। মাঝপথেই ওত পেতে থাকা শ্রীকান্ত তাঁর পথ আটকায়। ফোন নিয়ে আবারও দুজনের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি শুরু হয়। রাগের মাথায় শ্রীকান্ত জামার ভেতর লুকিয়ে রাখা ধারালো ছুরি বের করে রেবতীর বুকে একের পর এক কোপ মারতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাঝরাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন রেবতী, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তদন্তে পুলিশ, মায়ের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ:

ভরদুপুরে এমন ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ঘাতক প্রেমিক শ্রীকান্ত। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, এই খুনের পেছনে শ্রীকান্তর মায়ের কোনো মদত বা উসকানি ছিল কি না, সেই সন্দেহে পুলিশ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *